সানসেট বৌলেভার্ড – অ্যা বিলি উইলডার প্রোডাক্ট

0
8
Movie || Sunset Boulevard (1950) 
Relevant || Film Noir 
ফরাসি ভাষার ফিল্ম নোয়া (Film Noir)  বলা হয় কৃষ্ণ চলচ্চিত্রকে। ডার্কের সাথে হালকা চালের আলোকসজ্জার সিনেমাটোগ্রাফির এসব সিনেমার মূল সূত্র জার্মানির অভিব্যাক্তিবাদ বা প্রকাশবাদ থেকে৷ মানুষের বাহিরের রুপকে তোয়াক্কা না করে আড়ালের ব্যাক্তিজীবনের প্রকাশ ঘটানোই প্রকাশবাদ৷ মানুষের অশুভ আকাঙ্খা, ক্ষমতার লিপ্সা, লোভ লালসা, সমাজবিরোধী মনোভাব, নিজস্বতা, স্বার্থপরতা এবং সর্বোপরী মানব চরিত্রের আভ্যন্তরীণ ভয়ানক দিকগুলো শিল্প চর্চায় ব্যাপকায়িত করার আন্দোলনটি যেসব সিনেমায় মহৎ রুপ ধারণ করেছে সেগুলোই জার্মান অভিব্যাক্তিবাদ সিনেমা বলা হয়ে থাকে। ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের সময় এর ব্যাপক চর্চা জার্মানিতে লক্ষ্য করা যায়৷ পরবর্তীতে দেশে নাৎসি পার্টির তৎপরতা বেড়ে গেলে সেসব চলচ্চিত্রকারদের টিকে থাকা অনেকটাই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তাই তাদের অনেকেই তখন যুক্তরাষ্ট্রে পারি জমায়৷ 

>

আমেরিকায় এসে ফিল্ম নোয়া কিছুটা দিক পাল্টায়৷ মানুষের আভ্যন্তরীণ ভয়ানক দিকের সাথে হতাশাবাদ থেকে যৌনাকাঙ্খার প্রাধান্যমূলক কাহিনী ফিল্ম নোয়াতে স্থান পেতে থাকে৷ যদিও ফিল্ম নোয়ার মূল গল্প কয়েকটি ধারাতেই আবর্তিত ছিল, এরমাঝে অদ্ভুত অবাস্তব বিষয় থেকে শুরু করে প্রেম-প্রতিহিংসা, পরস্পর বিরোধী সংঘাত এবং নৃশংসতা ছিল অন্যতম৷ 
১৯৪০ এবং ১৯৫০ এর দশককে আমেরিকান ফিল্ম নোয়ার ক্ল্যাসিক পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে৷ এ সময় বিশ্বব্যাপী অতীতের মহামন্দা ( Great Depression) কেন্দ্রীক গড়ে উঠা অনেক অপরাধের কল্পকাহিনীর উপস্থাপন ফিল্ম নোয়ায় ব্যাপক হারে দেখা যায়। এর মাঝে উল্লেখ্য হচ্ছে The Big Sleep, The Big Heat, The Set Up, Night And The City, Gun Crazy এবং D.O.A সিনেমাগুলি। 
সর্বপ্রথম নিনো ফ্রাংক নামক একজন ফরাসি চলচ্চিত্র সমালোচক ফিল্ম নোয়া বা কৃষ্ণ চলচ্চিত্রের নামধারা ব্যবহার করেন৷ এই নামটি তখন চলচ্চিত্র কুশলীদের মাঝে এবং সকল ইন্ডাস্ট্রিতে অপরিচিত ছিল৷ ধীরেধীরে ৭০ দশকের সময়ে এই ধারার চলচ্চিত্রগুলো এ নামে পরিচিতি পায়৷ এর আগে এটি মেলোড্রামা নামেই অধিক পরিচিত ছিল৷ 
পরবর্তীতে ১৯৮০ বা আধুনিক যুগেও অনেক পরিচালক ফিল্ম নোয়ার মাল মশলা দিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন। সেগুলো পরিচিতি পেয়েছে নব্য নোয়া ফিল্ম (Neo Noir Film) হিসেবে৷ 
ফিল্ম নোয়াকে আলাদা জনরা হিসেবে বিবেচিত করা যায় কিনা এ নিয়ে এখনো চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের দ্বিমত রয়েছে৷ 
ফিল্ম নোয়া নিয়ে আইএমডিবির একটি জরিপ রয়েছে৷ তাতে দর্শকদের ভোটে সর্বকালের সেরা দশটি নোয়া ফিল্মের প্রথমে স্থান করে আছে বিলি ওয়াইল্ডারের “সানসেট বৌলেভার্ড ” 

প্লট

জো গিলিস, হলিউডের উঠতি স্ক্রিপ্ট রাইটার। লিখিয়ে হিসেবে এখনো তেমন সফলতা আসেনি৷  ক্যারিয়ার জীবনের শুরুর মূহুর্তে স্ট্রাগলিং সময়ে দারিদ্রতার সাথে এতটাই ধুকছিলেন যে নিজের গাড়িটাকেও আগলে রাখতে পারছিলেন না৷ এপার্টমেন্টের ভাড়া তিন মাসের বাকী পড়ে আছে। সেসময়ই হঠাৎ করে সানসেট বুলেভার্ড এলাকায় এক পুরনো বাড়ির সন্ধান পান৷ কার এজেন্সি থেকে তার গাড়িটিকে লুকিয়ে রাখার জন্য সে বাড়িকে আদর্শ মনে হয়৷ কিন্তু ভিতরে ঢুকে তিনি দুজন বাসিন্দা আবিষ্কার করেন। একজন হলিউডের নির্বাক চলচ্চিত্র জগতের সাবেক অভিনেত্রী নর্মা ডেসমন্ড৷ আরেকজন তার হাউস কীপার। এবং তখন থেকেই জো গিলিসের জীবনে এক অদ্ভুত মোড় ঘুরে। যার শেষটা হয় বড়ই করুণ অবস্থায়। 

>

বিলির এ মুভিটি কেন ফিল্ম নোয়ার সর্বসেরার তালিকায় আছে তা একনজর দেখলেই বুঝা যায়। হতাশাবাদ থেকে ক্রাইমের মনোবাসনা, সাথে মানসিক ভারসাম্যহীনতার মাধ্যমে অনবদ্য এক স্ট্রং প্লট সাজিয়েছেন বিলি ওয়াইল্ডার৷ এই তো গতকালই বিলির Witness For The Prosecution মুভি দেখলাম। সেখানে যে কী চমৎকার স্টোরিটেলিং আর স্ক্রিনপ্লে ছিল তা বলাই বাহুল্য। এ সিনেমা তারও আগের৷ এখানেও দূর্দান্ত স্ক্রিনপ্লে, অসাধারণ স্টোরিটেলিং পরিলক্ষিত হয়েছে৷ এই দুই মুভি দেখে আমি বিলি ওয়াইল্ডারের পুরোই ভক্ত বনে গেছি। 
বিলির সিনেমায় সবচে উপভোগ্য লাগে অভিনয়ে৷ এ মুভিতে কী বলব! নর্মা ডেসমন্ডের ভূমিকায় গ্লরিয়া সোয়ানসনের অভিনয় চমৎকার ছিল৷ আসলে তার অভিনয় এতই সুন্দর যে সেটা বুঝানোর মত ভাষা আমার ভাণ্ডারে মজুদ নেই৷ প্রাক্তন অভিনেত্রী, অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে হওয়াই যে দিনকে দিন হতাশায় মুষড়ে পড়ছে এবং তা থেকে ধীরে ধীরে সৃষ্টি হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীনতা! এ বৈশিষ্ঠ্যগুলো নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তোলা স্বাভাবিক কারো পক্ষে সম্ভব না। জাত শিল্পী বলেই তিনি পেরেছেন। আর সাথে তো আরেক জাত পরিচালক তো ছিলেনই৷
সর্বমোট ১১টি অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল সানসেট বুলেভার্ড। তার মাঝে জিতে নিয়েছিল তিনটি ক্যাটাগরিতে। বেস্ট রাইটিং, স্টোরি এবং স্ক্রিনপ্লে। বেস্ট আর্ট ডিরেকশন, সেট ডেকোরেশন, ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট। এবং বেস্ট মিউজিক, স্কোরিং অভ আ ড্রামাটিক অর কমেডি৷ 
গ্রেটেস্ট মুভিজ এভার মেড এর তালিকায় প্রায়শই এ মুভিকে স্থান করে নিতে দেখা যায়। ২০০৭ এ আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট এর করা  ২০ শতকের সেরা ১০০ মুভির তালিকায় এটি রয়েছে ১২ তম স্থানে৷ 
Director : Billy Wilder 
Genre : Crime, Film Noir 
Duration : 1h 55m 
Cast : Gloria Swanson, William Holden, Erich Von Stroheim, Nancy Olson, Jack Webb 
Imdb : 8.4/10 
Rotten Tomatoes : 98%
পোস্টটি লিখেছেনঃ Rashan Faredi
@ laMidnight

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here